অথবা

বিবাহ-রহস্য।

শ্রীকালীপ্রসন্ন ঘোষ প্রণীত |

টাঁকাঁ__আরদাঁণিটোলা, বান্ধব-কুটীর হইতে প্রীহরকুমার বন্থু কর্তৃক প্রকাশিত

শ্পাপাাচেতাশিসিী

১৮ই চৈত্র ১৩০১। 401 702865 26866, মূল্য ১২ এক টাকা।

ঢাকা-আরমাণিটোলা,- গিরিশ্যস্ে মুন্সি য়াহেচ্বসন প্রিন্টার কর্তৃক মুক্রিত।

পূর্ববঙ্গের আভরণ প্রীতিনিকেতন পরোপকারব্রত পণ্ডিত-রত্ ভিষক্-কুল-বরেণ্য শ্রীযুক্ত বিজয়রত্ব সেন কবিরগ্রন মহাশয়ের কর-কমলে ্রন্থকারের অক্রত্রিম প্রীতি ন্েহের উপহার |

বিজ্ঞাপন

মানবমমাজের মূলস্থত্র অথবা মুখ্য বন্ধনী বিবাহ। ফলতঃ)বিবাহ লইয়াই সমাজ, _বিবাহবন্ধনেই সমাজের কৃত্রিও স্থিতি; এবং বিবাহধর্মের ক্রমোন্নতিতেই লমাজের উন্নতি। ন্ৃতর!ং কথাটা সক- লেরই আলোচ্য। বান্ধব নামক সাহিত্যপত্রে বিবাহ বিবাহ- শৃঙ্খল-বন্ধ মনুষ্যজীবনের সুখ দুঃখ এবং আশ! আশঙ্কার নান1- রূপ মমালোচনাঁয় বহুকাল হইল কএকটি প্রবন্ধ প্রকটিত হইয়াছিল এই পুস্তকের এক অংশ সেই কয়টি পুরাতন প্রবন্ধ, এবং আর এক

ংশ “বিবাহ কত প্রকার? নামক একটি নূতন প্রবন্ধ। যে গুলি পুরাতন, মেগুলিও, নূতনের সহিত সামর্রদ্য-রক্ষার অন্থুরোধে, এত গরিবর্তিত পরিবর্ধিত হইয়াছে যে, সমস্ত পুস্তকথানিরে নৃতন- লিখিত বলিলেও, তাহা অসঙ্গত হয় না। কিন্ত প্রবন্ধ নূতন বলিয়া প্রবন্ধের কথাগুলিও যে নূতন, ইহা আমি 'সাহী করিয়া বলিতে পারি না যাহার চক্ষু আছে, সেই দেখে; যাহার অতি সামান্য বুদ্ধি আছে, সে দৃষ্টবিষয়ের যথামতি বমালোচন। করিয়া থাকে। আমি সমাজের অবস্থা দেখিয়া সামান্যতঃ যাহা বুঝিয়াছি, তাহাই ভিন্ন ভিন্ন দিক. হইতে দমালোচনা৷ করিয়া পাঠককে বুঝাইতে যত্তপর হইয়াছি। যদি এই প্রবন্ধগুলি পাঠ করিয়! একটি গাঠ- কও প্রাচীন আর্ধ্যের প্রীতি ভক্তিদূলক পবিত্র ধর্ম অথাৎ পর-চিতপ্প্রীণনের জন্য আত্মোৎ্নগের ভাবকে দাম্পত্যন্জীবনের

আদর্শ বলিয়া হয়ে অন্গতব করেন, আঁমি তাহা হইলেই, আমার এই পরিশ্রম সফল মনে করিব। পুরাতন প্রবন্ধ গুলির অধিকাংশই জানানন সরম্থতীর নামে পত্রস্থ হইয়াছিল। নূতন প্রবন্ধটিও, সেই হেতু, জানাননের নামেই পুস্তকে গ্রথিত হইল। ইহার একটুকু উদ্দেশ্য আছে। মনুষ্যমাত্রই একে এক শত। দে কখনও যোগী, কখনও ভোগী,কখনও বিরক্ত মন্ন্যানী, কখনও ব! বিষয়স্থ্খাসক্ত বিলাবী। ইহা মানবজীবনের নিত্যপরী- ক্ষিত কথা জ্ঞানানন্দ বিষয়বন্ধনশূন্য অথচ প্রফুল্লচিভ প্রমোদ প্রিয় পরিব্রাজকের চক্ষে যে ভাবে সমাজ সমালোচনা করিয়াছেন, সেই ভাবটির স্বাতন্ত্রাবক্ষার নিমিত্তই তাহার নামটা] রক্ষা করিতে হইয়াছে। অপিচ, এক দময়ে বঙ্গদেশের অনেক পাঠক জ্ঞাঁনানন্দী লেখায় বিশেষ দয়া! অনুগ্রহ প্রদর্শন করিতেন। তীহাদিগের সেই দয়! অনুগ্রহের সম্মানরক্ষাও নাম ব্যবহারের দ্বিতীয় উদ্দেশ্য এই পুস্তকের ভাষাসম্বন্ধেও এখানে দুই একটি কথা বলিব। বাজালায় আনন্দ মহ্তা,_শবভাব মেজাজ, রীতি রেওয়াজ, পরিচ্ছদ লিবাজ,- অপূর্ব আজগুবি,-এবং কল্পনা ও. খেয়াল এই উভয় প্রকার শবই ইদানীং একই অর্থে প্রায় মমান ব্যবহৃত হইতেছে মজা মেজাজ প্রভৃতি শব্দ, যাবনিক হইলেও, হিন্দু মুদলমানের একই দেশে অবস্থাননিবন্ধন, এইক্ষণ দেশীয় বাঙ্গালায় ব্যবহারে আপিয়াছে। কিন্তু সে ব্যবহারে, সময়, নঙ্গী বিষয়ের পার্থক্য অনুগারে, সর্বত্রই একটুকু বিশেষ পার্থক্য সাবধানতার সহিত পরিরক্ষিত হইয়। থাকে। বাগন্াহার প্রভৃতি

উরদ, গ্রন্থের বাঙ্গালা অনুবাদে শবনির্ববাচন বিষয়ে রূপ দাব- ধানতার কোন পরিচয় না থাকিরেও, হিন্দুসমাজের প্রচলিত বাঙ্গা- লায় সর্বদাই উহার পরিচয় পাওয়া] যায়। উপামন! আরা" ধনায় বড়ই এক আজগুবি মজা আছে, এমন কথা হিন্দু লিখিতে পাঁরে না, হিন্দুর রেখনীতে ইহা আইনে না। আর্জি গুরুদেবের মেজাজ বড় গরম দেখিলাম,_ অথবা আলুলিত-কুন্তলা শকুন্তগার সে অপূর্বব লিবাজ রেওয়াজ দেখিয়া! দেলটা বড় খোস হইল, ইত্যাদি বাক্য বঙ্গবাদী হিন্দুর নিকট বড়ই বিকট বলিয়। বোধ হয়। কারণ, উপাদন! আরাধনার ধারে মজা, গুরুদেবের ধারে মেজাজ, এবং তপোবনবাপিনী খধিকম্যার বর্ণনায় লিবাজ রেওয়াজ প্রভৃতি শব্দের সমাবেশ দেশীয় শতনহত্র লোকের সংস্কার বিরুদ্ধ। কিন্ত, মজা, মেজ|জ রেওয়াজ প্রভৃতি শব্ধ যে তাই বলিয়] বাঙ্গালার আর কোথাও স্থান পাইবে না, এমন কোন কথা নাই। আমি এই বকল এবং আারও বহুবিধ কারণে, কিবা উপ- ন্যাদী, কিবা উদ্দীপনার উত্তাল-তরক্ষ-বিলা'দী, "কোন এক প্রকা- রের ভাষাকেই বকল প্রকার বিষয়ের উপযোগী বলিয়া মনে করিনা। রোকে গাট্টা কবুণিয়ত প্রভৃতি" দলিল লিখে এক প্রকার শবে, এবং প্রেম, বিরহ প্রাণের অন্তর্নিহিত ছুঃখের গীত গায় আর এক প্রকার শব্দে ;_গুরুজনের সহিত কথোপ- কথনে অথবা পুত্র কি শিয্যস্থানীয় ব্যক্িদ্িগের নস্তাষণে এক প্রকারের শব্ধ ব্যবহার করে, এবং আমোদ-প্রমোদের বৈঠকে-- মমানব়ঙ্ক প্রণরিজনের সহিত নিঃদৃক্কোচ আলাপেআর এক

সূচীপত্র বিষয় বিবাহ (প্রলাপ) বিবাহ (ব্যাকরণ-রহদ্য) ঘোমটা মুখরা ভাধ্যা অথবা গৃহিণীরোগ বিবাহ কত প্রকার

ষ্ঠ

১৭

৩৬

৮৮

প্রমোদলহরী।

সপ্ন

বিবাহ।

(প্রলাপ।)

আমার পোড়া হৃদয় বুঝুক আর না বুঝুক, এবং যার যা বলিবার হয় বলুক, আমি বিবাহ করিব না। আমার আত্মাভিমানিনী, আত্মাভিসারিধী, উন্মাদিনী বুদ্ধি আমাকে আমার আত্মার বাহিরে অন্য কাহারও সঙ্গে বিবাহের বন্ধনে বন্ধ হইতে দিবে না| বিবাহ করিব কেন?- মুখের জন্যে ?-_আমার শ্গুখ এইক্ষণ আমার আপনার অধিকারে আছে, তাই ভাল। আমি সুখের লালপায় পরের হাতে প্রাণ তুলিয়া দিতে নম্মত ইইব না। কবিকল্লিত বিদ্যাধরী কিংবা বন-দেবী যেমন

গ্রমোদলহরী |

আয়াতরুর মূলে বধিয়া, আপনার আদরে আপনি গলিয়া_আপনার ভাবে আপনি ঢলিয়া, ঢল ঢল চিত্তে বলিয়াছে,_ 'আমি প্রাণ দেব না, গ্রাণ নেব না» আপন প্রাণে ভাল বাসি, আমার অভিমান-বিলাসিনী নিত্যবিসংবাদিনী, বিভ্রান্ত বুদ্ধিও, আপনার অনুরাগে আপনি উছলিয়া, মান*ভরে ফুলিয়1, এইরূপ বলিতেছে,_ আমি প্রাণ দেব না, প্রাণ নেব না, আপন প্রাণে ভাল বাকি, আঁমি আপন দুঃখে আপনি কাদি» আপন সুখে আপনি হাতি আমার এই প্রাণ আজও যেমন আমার রহিয়াছে,উহা চিরদিন তেমনই আমার রহুক | আমি উহ] কাহারও কাছে বাধাও দিব না» বিক্রয়ও করিব না; যেমন আছে তেমনই থাকুক | বাঁধা দিতে আমার বড়ই আপত্তি। বাধা দিলে কি বাঁধ! পড়িলে, এবং কুশীদজীবীর কাল খাতায় খাতকের ফর্দে নাম লিখাইলে; বন্ধকের বস্ত ফিরিয়া আবার পাঁও কি না পাও) চিরজীবনের জন্ক সুদের দায়ে ঠেকিলে। মংদারে অনেকেই বিক্রয়ের

চা

বিবাহ। | রঙ

মামে ভয় পাইয়া, আপনার প্রাণটি কাহারও না কাহারও কাঁছে দুচারি দিন,কি ছুচারি বছরের তরে বাঁধা দিয়াছে, এবং পরিশেষে বোহাগের সুদ যোগাইতেই একেবারে দেউলিয়া বনিয়া, মনের আগুনে পুড়িয়! মরিয়াছে এমন বেহিসাবি বন্দোবস্ত, এমন ক্ষতিকর ব্যাপারেও কি বুদ্ধিমান লোকের প্রতি জন্মিতে পারে?

*. কিন্তূ, বাধা দেওয়া যদি দোষের কথা, বিক্রয়ও নিতান্ত গুণের কথা নহে। বিক্রয় সে হিসাবে বরং অধিকতর অনিষ্টজনক | পৃথিবীর বণিকৃষম্প্রায় নোনা রূপা, তাঁমা কীসা, মণি মুক্তা প্রাবাল, অথবা বনের কাঠ, খনির অঙ্গার এবং সুই ন্ৃতা লতা পাতা লইয়! যেমন দোকান খুলিয়া! বে, কিংবা মাথায় পরা লইয়া ফিরি- ওয়ালার মত বাণিজ্যে বাহির হয়, আমি কি, আমার এত নাধের এই প্রাণথটি লইয়া সেইরূপ বেচা কেনার এক দোঁকাঁন খুলিয়া বসিব। অথবা প্রাণের পর্নর। মাথায় বহিয়া, দেশে দেশে, নগরে নগরে, এবং গ্রামে গ্রীমে গৃহে গৃহে ফিরি করিতে যাইব ? প্রাণ লইয়1" বাণিজ্য ! হা ধিক্‌ ! এই স্বার্থচিন্তাময় মনুষ্য-জগতে ইহার ক্রেতা কৈ? কয়জনে ইহার গৌরব বুঝে? কয় জনে ইহার মূল্য জানে? আর, বুঝিলে এবং জানিলেও উপযুক্ত

£ গ্রমোদলহরী।

মূল্য দিয়া ক্রয় করিতে প্রস্তত হয়, এই পৃথিবীতে তেমন উদারপ্রকুতি মান্য গণ্য মহাঁজনই বা জন আছে?

ধুলির মনুষ্য ধুলিরই মূল্য বুঝে এবং দোকানদারি- তেই মুগ্ধ হইয়া থাকে, প্রাণের মূল্য বুঝে নাঃ এবং যে রীতিমত দোঁকানদারি করিতে না জানে, তাহাকে জিজ্ঞানাও করে না। নাঁধারণ মনুষ্ের নিকট একটি ্ব্ণা্ুরি কিংবা একখানি ন্বর্ণবলয় যেমন মৃূল্যবানূ, একটা বান্মীকি কি ভবভূতির প্রাণ তাহার অর্ধ মূল্যের সমান কি না, সন্দেহ।

যাহার! প্রাণের বাণিজ্যে অগ্রনর, তাহারাও বাহি- রের আবরণ এবং আনুষঙ্গিক লাঁভালাভের যেমন অনু- সন্ধান করে, বাণিজ্যের প্রক্কৃত বন্তটি বথার্গ মূল্যবিশিষ্ট কি না, তাহা তেমন করিয়! দেখিয়া লয় না। তুমি একটি সরল, সুমধুর সুম্বাছু প্রাণ লইয়া এই ভবের বিপণিতে' ঘুরিয়৷ বেড়? কিন্তু উহার বহিরাঁবরণটি যদি গরিল্টি করা চকচ'কে না হয়, কেহই তোমার প্রতি ফিরিয়া চাহিবে নাঁ। তুমি মহত্ব মনন্বিতার প্রত্রবণ স্বরূপ আর একটি ম্বভাব-সুন্দর প্রেম-পূর্ণ প্রাণ লইয়৷ ফিরি করিয়। দেখ কিন্তু তুমি যদি উহা! লইয় জাত দোকান- দরের মত গলাবাঁজি করিতে ন৷ পার, এবং ব্যবসায়ি"

বিবাহ।

দিগের নীচৃত্তি নিকুষ্ট পদ্ধতিতে লাভের কথাটা ভাল করিয়া শুনাইতে রক্ষম ক্ক না হও, তাহা হইলে কেহই তোগার মধুর কথায় মন দিবে না।

ইহা। নূতন নহে। পৃথিবীর বাণিজ্য বরাবরই এই ভাঁবে চলিয়া আনিতেছে | এখানে গুণাগুণের বিচা- রের আশা বৃথা কত প্রতিতাশালী, প্রীতিমনোহরঃ প্রধান পুরুষ লজ্জায় দুঃখে অধোব্দন হইয়া অন্ধকারে পড়িয়া রহিয়াছে, এবং তাহাদিগের দুঃখ লজ্জা, যেন মুক্তার হারে পরিণত হইয়া, মর্কটের গলায় শোভ! পাইতেছে। কত কোকিল, কাঁক-কোলাহলে পরাভৰ পাইয়া, বনের প্রান্তে বিয়া বিলাপ করিতেছে কত ভূঙ্গ, ভেকের বিকট-ধ্বনিতে হারি মানিয়া, চিত্তের পরি- তাপে গুন্‌ গুন্‌ করিয়া উড়িয়া বেড়াইতেছে এবং কত প্রকারের কত গুণবান্‌ প্রার্থী, মণিম্ডিত গর্দভের নিকট বাণিজ্যের যেই বিচিত্র যাচাইতে , পরাজিত হইয়া, আপনার জ্বালায় আপনি হ্বলিতেছে|

* সংস্কৃত দাহিত্যে সক্ষম শব্দের ব্যবহার নাই ; বাঙ্গালায় আছে। বাঙ্গালায় উহা! বিশিষ্টরূপে প্রচলিত, অথচ ব্যাকরণ অনুমারেও শুদ্ধ। ভীববাচি ঘঞ্চ প্রত্যয়াস্ত ক্ষম. বিশেষ্য অর্থ-_ সামর্ধ্য। শক্তিমত্ত। | ম্মুতরাং সক্ষম সমর্থ এই ছুই শব্ধ একার্থ- বোধক। মাস্ততা ছেতু উপান্ত অকারের বৃদ্ধি নিষেধ।

প্রমোদলহরী।

আমি এই নিমিত্ই আমার বুদ্ধির অটল গরিমায় মনে মনে প্রায় অটল নংকল্প করিয়াছি যে; না হয় সুখ নাই হইল, আমি প্রাণ লইয় বাঁণিজ্য করিব না অনেকেই, লাভের তরে ব্যাপার করিতে যাইয়া,মূলধনে বঞ্চিত হয়| আমি দুঃখে থাকি তাহাই আমার সুখ। কিন্তু তথাপি এমন বিড়ম্বনার বাণিজ্যে বিড়শ্বিত এবং লাভের মধ্যে আমার মূলধনে বঞ্চিত হইয়া মূর্খ নীম কলাইব ন1এ আঁর বাণিজ্যের ফল?-যাহাঁরা৷ জিনিষের গৌরব বুঝে, তাহারাও কি উপযুক্ত মূল্য দেয়? যদি ক্ষণকা- লের তরেও কল্পনার দিব্য কর্ণ পাইতে পার? তাহা হইলে শুন ক্রেতারা কি বলে। কেহ বলিতেছে”_- ওহে প্রাণের বণিক! এন, এন। আমার কাছে বিশ্ব- বিখ্যাত পিপিরজিৎ” ফুলের মধু আছে। তুমি আমার কাছে এদ। পারিজাতও পরজিতের কাছে পরাজয় মানে। ষোগ-শান্ত্রে উহার এক নাম মায়, আর এক নাম মমতা “প্রকৃতিবাদে”উহারই অন্য নাঁম প্রাণজিৎ। গ্রাণিমাত্রই উহার অধীন; এবং উহাই তোমার সাধের প্রাণটির উপযুক্ত মূল্য আমি তোমায় ফোটা ফোটা! করিয়া সে মধুর ফুলের মধু খাওয়াইব, তুমি প্রাতিদানে আমায় তোমার প্রাণটি দিয়া কৃতার্থ হও কেহ বলি-

বিবাহ

তেছে,_এন এন, আমার কাছে তোমার প্রাণের পসরা লইয়া এস। তুমি বথা কেন বাজারে বাজারে ঘুরিয়া ঘুরিয়! পরিশ্রান্ত হইতেছ। আমি তোমায় প্রা খের মূল্যে একটুকু আদরের আতর এবং আবদারের এক খানি সাঁজানে! ডালি উপহার দিব, আর আমার এই আঁচলে তোমায় ঢাকিয়া রাখিয়া তোমার সকল “আশ! নফল করিব তুমি আমায় তোমার প্রাণটি দিয়! চরিতার্থ হও। তৃতীয় একজনে ব্লিতেছে,-ওহে আমার নিকট আদরও নাই, আবদারও নাই, ভ্রান্তির একখানি ভবছুঃখহারি দর্পণ আছে আমি তোমায় সে ভ্রান্তির দর্পণে একখানি অপূর্দম ছবি দেখাইয়া তত্ববিদ্যার সকল রহন্য শিখাইব। তুমি গুরুদক্ষিণার বিনিময়ে আ- মায় তোমার নামান্ত প্রাণটি দিয়! জীবনে সার্থক হও| চতুর্থ একজনে বলিতেছে,-আমি তোমায় ছবি দেখাইতে না পারিলেও, ত্রিতন্ত্রীর ছু গঞনের ন্যায় মিইকথার ম্ত্ু কুজনে, মোহিত রাখিব, তুমি আমায় তোমার প্রাণটি দিয়া গাঁণে নুধানিক্ত হও। পঞ্চম একজন ইহার কিছুই না বলিয়া দর্পস্ফরিত-কষ্ঠে দর্শ সহকারে বলিতেছে যে,_আমি তোমায় আমার পদ- ঘেবা করিতে অধিকার দিব, আর যদি তুমি ভক্তিমান্‌

গ্রমোদলহরী।

বণিক্‌ হও তোমার স্বুদ্ধি থাঁকে, তাহা হইলে কখনও কখনও তোমাকে বিনা মেঘে ঝটিকার ভীষণ-শোভা বিলোল-নৃত্য এবং মদিরার সরস-বিলপিত সজীব মুভি দর্শন করাইব, তুমি তোমার প্রাণটি ভক্তির ভাবে আমার পায়ে ফেলিয়। দিয়া নিশ্চিন্ত হও |

ক্রেতারা এমনই কিছু একটাই কহিয়। থাকে। কিন্ত হায়! কেহই এমন কথ! ভুলিয়াও কয় না যে, আমি, তোমায় প্রাথের মূল্যে প্রাণ দান করিব, তোমার প্রাণে আমার প্রাণ বিনিময় করিয়া প্রাণে প্রাণ মিশা- ইয়া ফেলিব,-তোমাঁতে আমি ডূবিয়া থাকিব, এবং আমাতে তোমাকে ডুবাইয়া রাখিব, আমাকে তুমি তোমার এঁ প্রাণটি দিয়া কিনিয়া নেও যেবাণিজ্যে কাচের মূল্যে কাঞ্চন বিক্রয় হয়, যদি সেই বাণিজ্যই প্রবঞ্চনা বলিয়া তিরক্কৃত হইতে পারে, তাহ। হইলে যে বাণিজ্যে.মধু মদিরা এবং আদর আতরের দরে মনুষ্যের অনস্তবিলানী অবিনাশী প্রাণ বিক্তীত হয়, তাহাকে প্রবঞ্চনার পর প্রবঞ্না, প্রতারণার পর প্রতারণ! এবং ছলনার পর ছলন। বলিয়! স্বণা করিব না কেন?

ইহার পর স্বাধীনতা | বণিগ্রৃতির ক্রয় বিক্রয়ের কথায় স্বাধীনতাকে কি একবারে হিনাবেই আনা হইবে

বিবাহ।

না? উহার কি কিছুই মূল্য নাই? যে স্বাধীনতাকে কবিতা ন্বর্গ-মুখ বলিয়া বর্ণনা করিয়াছে,__দেবতারা স্বর্গ হইতেও গরীয়নী জ্ঞানে পূজা করিয়াছেন, সেই স্বাধীনতার কি কিছুই গৌরব নাই ? মানিলাম তুমি মহাজনের ধর্ম জান এবং মহাজনি ধর্মের মহত্ব রক্ষার নিমিত প্রাণের বদলে প্রাণ বিলাইতেও প্রস্তুত আছ। কিন্তু তাঁহা বলিয়াই কি আমি যেমন তেমন একটা প্রাণের বিনিময়ে আমার প্রাণ-গত-ন্বাধীনতা রূপ অমূল্য সম্পদ জন্মজন্মান্তরের তরে তোমার নিকট বিক্রয় করিব? আমি আজ আমারই আছি, নর্বতোভাবে, সম্পূর্ণরূপে কড়ায় ক্রান্তিতে আমার আমায় কেহ ঠোঁটে করিয়াও উড়িয়। বেড়ায় না, এবং গলায় শিকলি বাধিয়া কিংবা নানারন্ধে। তা গাথ্য়াও টানিয়া লইয়া যায় না। আমি আজ কাহারও অধীন নহি। কেহই আমাকে দাঁর বলিয়া পদ-নখে স্পর্শ করিতে পারে না,

অথবা ওঠ বলিয়! উঠায় না%& এবং বসে বলিয়া! বসাইয়া

* অকৃতদার জ্ঞানাননদ এই কথণ গুলি সম্ভবতঃ শরংসরোদিনী নামক সথের নাটক পড়িয়! শিখিয়। ধাকিবেন যথা..."

“শিরৎ | তিন ঘণ্ট। ধরে জ্বালাচ্ছিলে কেন, রাক্ষলি? পাঠশীলের গুরুমহা* শয়ের মত “ওঠ বস' করাচ্ছিলে কেন, রাক্ষমি? “সরোজ। ( সহাস্যে ) তোমাকে আবার “ওঠ বম” করাজেম কখন। গুরু মহাশয় বা হলেম কখন।”

১০ গ্রমোদলহরী |

রাখিতে সাহস পায় না। আরব্য উপন্যাসের গিরি- ্রস্থবানী বৃদ্ধ যেমন হতভাগ্য দি্ধুবাদের ক্ষন্ধে সওয়ার হইয়াছিল, আশার স্কন্ধে কেহই তেমন সওয়ার হইতে পারে না, এবং মিশররাঁজ্যের মায়াবিনী যেমন রোমের এক অদীন-ত্ব বীর-পুরুষকে বড়শীতে গাথিয়া দিগৃদিগ- স্তরে ঘুরাইয়াছিল, কেহই আমাকে নেইবপ গাখিয়া দেই ভাবে নষ্কে সঙ্গে ঘুরাইতে রমর্থ হয় না। আমার এমন যে স্বাধীনতা”_-এমন যে সাত্রাজ্যছুল্লভ নৌভাগ্য, ইহ! আমি একটা কথার ছাদে কি চাহনির ফাঁদে পড়িয়া ক্ষতিলাঁভ গরণিয়া না দেখিয়া,_অগ্রপশ্চাৎ কিছুমাত্র না ভাবিয়া, অকারণে ডালি দিতে যাইব? তুমি আত্ম দাঁনে অনুগ্রহ করিয়। আমাকে কিনিয়া লইতে বম্মত হইয়াঁছ বলিরাই কি আমি, “রাজি রগ্বতে বহাঁল তবি- য়তে,” তোমার চক্ষে দেখিব, তোমার কর্ণে ুনিব, এবং কাব্যের রবরন কটু তিক্ত কষায় প্রভৃতি কাব্যা- তিরিক্ত ভোগ্বের ছয় রন তোমার জিহ্বায় চাখিতে আরম্ভ করিব? ইহারই নাম কি সুখের নার এবং মংঘার- সমুদ্রের সারভূত সুধা?

77648952728 * বড়শীর কথাটা রূপক নহে। বীর-চূড়ামণি এণ্টনী নত্য সত্যই ক্লিওপেট্রার বড়শী ধন্িয়। জলে ভানিয়াছিলেন।

" বিবাহ | ১১

[আজি আমার চিত্তের গতি অক্ুন অনীম,_ৃষ্ির অপরিনীম রাঁজ্যে এমন কোন স্থান নাই, এমন কোন বন্ত নাই, যাহা আমার ইচ্ছা ওআকাক্ষার অনধিগম্য। আমি কখনও ু্যলোকে, কখনও চন্দ্রলোকে, কখনও সমুদ্রে কখনও পর্বতে +_কখনও বিহঙ্গের পক্ষে এঁ সুনীল নভ- স্লে,-কখনও শফরীর মত দরোবরের শীতল জলে ! আমার প্রাণ কোথাও পিঞ্জর-বদ্ধ নহে,__কিছুতেই আমাকে কীধিয়া রাখে না এবং কিছুতেই আমার কল্পনার বিচিত্র- বিলানে বাঁধা দিয়া উহাকে এক স্থানে কি একই ভাবে আবদ্ধ করে না। দেখ,আজি আমি বদন্তের বমীর। বসন্তের সমীর যেমন ধীরে ধীরে প্রবাহিত হয়,_কুক্মের ্রন্ফুটিত মাধুরী লইয়া ধীরে ধীরে খেলা করে, আমিও সেইরূপ আমার উচ্ছৃঙ্থল প্রাণ উচ্ছল কল্পনার মৃদু সমীরে ধীরে ধীরে প্রবাহিত হই,এবং এই বিশ্বূপ বিনোদ- কাননের প্রস্ফুটিত শোভা লইয়া ধীরে ধীরে খেল1 করি। আবার দেখ, আজি আমি বৈশাখের ঝড়। কৈ, কোথায় সেই শাস্তি? কোথায় নেই মৃছুল-তরঙ্গ ?' আমি এইক্ষণ নিবিড়-ককষণ নীরদ-মালায় অঙ্গ ঢাকিয়া,__দামিনীর জ্বলন্ত রূপে অঙ্গ আবরিয়া৮_কণ্ঠে দামিনীর ত্বলম্ত হার পরিয়া, গৃহ উপথ্থহ, বন উপবন, লতাবিভান লভাবন্ধনে বদ্ধ

5২ গ্রমৌদলহরী।

উদ্ধত পাঁদ্প লইয়! ভীম-গর্জনে ব্যায়াম মল্সত্রীড়া করিতেছি, এবং সম্মুখে যাহা কিছু পড়িতেছে, তাহাই ভাঙ্গিয়া চুরিয়| কিংবা, উড়াইয়া নিয়া বিষাদের উন্মাদ- হাঁব্যে হানিতেছি। এই আমি গঙ্গার জল,কল-কল নাদে বহিয়া যাইতেছি”_জানি না কোথায় যাই এই আমি নিস্তব্ধ যামিনীর নিদ্রীলস জ্যোৎস্বা,_নদীর জলে ফুলের গায়ে কিংব৷ বৃক্ষের ছায়ায় নিদ্রাবেশে চলিয়া! পড়ি,_জাঁনি না কবে জাগিব ? আমার এই স্বাতন্ত্য সুখ, এই অনির্বচনীয় আমিত্ব একত্ব কি একটা অপরিজ্ঞাত অপরিজ্ঞেয় প্রাণের লোভে বিনর্জন করিব?

আমার এই আমিত্বই আমার কুগ্তকানন,_এই একভ্বই আমার পুষ্পিত ্রমোদ-বন | আমি এখানে বিশ্ববিস্থৃত হইয়া একাকী বিরাম করি, এবং বিশ্বের নকল প্রকার বাঘ-বিনংৰা্ধ চিত হইতে দূর করিয়া দিয়া একাকী আপনাতে ডুবিয়া থাকি। এখানে বিষয়ের কর্কশ কণ্ঠধ্বনি ঈধ্যার তুষানল প্রবেশ-পথ পায় না, এবং আশা নৈরাখ্যের বিষাদ-দোলাও এখানে দোলায়িত হয় না| এখানে আমি আপনাতেই আপনি নিত্যপ্রীত, আপনাতেই আপনি নিত্যন্থিত।-মান নাই, বিরহ

বিবাহ 5৩

মাই, প্রণয়ের কৃত্রিম কি অকৃত্রিম কলহ নাই ; সকল সময়ে এবং নকল ভাবেই একাকী আমি এক। ভোখ- রত মনুষ্য আমার এই অপার্থিব অমানুষ আনন্দের পরিচয় পায় না বলিয়াই কি আমি, এত চিন্তার পর, আমার এই নিম্মক্ত জীবনে উপেক্ষা করিয়া, বংশীমুগ্ধ বন-কুরঙ্গের মত, বাগুরায় আবদ্ধ হইব ?

তবে এক কণ্টক হৃদয় হৃদয়ের মত কুবুদ্ধির অধ্যা- পক, কুমতির অগ্রনায়ক, কুচক্তী কুট-ভাষী আর নাই। আমি পূর্বেই আভাষে ইহা জানাইয়াছি যে, হৃদয়ই আমার সকল আকাজ্জার আদি কারণ, সকল আশাঁর অন্তরায়। আমি হুদয়ের স্বালায়ই সতত অধীর থাকি, কিছুই করিয়া উঠিতে পারি না। মনে আমার কত বিষ- য়েই কত লংকল্প ছিল, হৃদয়ের উ্ত্তাপে উত্তেজনায় তাহা পুষ্পপত্রলগ্ন তুষার-কণার মত ভ্রব হইয়! বরিয়া পড়িয়াছে। এইক্ষণ তাহার চিহও আর নাই। মনে কত বিষয়েই কত কঠোর কামনা ছিল, হৃদয়ের আতট-বাহি তরঙ্গাঘাতে তাহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হইয় ভাপিয়! গিয়াছে। এইক্ষণ স্থৃতিপটেও তাহার পূর্বতন রেখাপাত দৃষ্ট হয় না। হৃদয়ের কিসে উন্মূলন হইতে পারে, মনুষ্য কি কোথাও দেই ছুরধিগম্য বিদ্যার মূল তত্ব শিখিতে পাইবে না?

১৪ প্রমোদলহরী |

হৃৎপিগুটাঁকে কেমন করিয়া নখে ছি'ড়িয়া পৃথিবীর উতর, দক্ষিণ, পূর্বঃপশ্চিম, এই চারি দিকে ছড়াইয়! দেওয়া যায়, পৃথিবীর কোন ক্যান্ট২৯্ককোন কোম্টই ণ'কি তাহার উপায় দেখাইবে না? আমার চক্ষু আমার নহে, সে হৃদয়ের আজ্ঞাবহ আমি যাহা দেখিতে নিষেধ করি, মে হদ- য়ের অন্ফুট আদেশে তাহাই দেখিবার জন্য আকুল হইবে আমার কর্ণ আমার নহে, মে হৃদয়ের দাস। হৃদয় যাহা শুনিতে বলে, আমার হত শানন-নত্েওঃ তাহাই বে তৃষ্ণা পুরিয় শুনিবে, এবং হৃদয় যাহ! শুনিতে বারণ করে, আমি শত বলিলেও তৎ্মম্পর্কে সে বধির রহিবে অধিক আর কি বলিব, আমি যে প্রাণটি লইয়া এত গৌরব করি,_যাহী এত যত্রে, এত সাবধানে অন্ত- রের অন্তর মধ্যে লুকাইয়া রাখিতে চাহি, তাহাও ফলতঃ হৃদয়ের | যেখানে হৃদয়,সেই খানেই আমার প্রাণ বৃক্ষ আর ছায়া, মুহুর্তেরও ছাড়াছাড়ি নাই।

হৃদয়, শ্বভাবতঃ অতি দুর্বল হইলেও, এই বলেই বলীয়ান্‌

* জঙ্দর্ণ দেশের বিখ্যাত দার্শনিক, এবং ইউরোপীয় বহু দ্বার্শনিকের গুরু ইনি ভক্তিপথের পথিক

+ প্রত্যক্ষবাদী সম্প্রদায়ের আদিপ্রবর্তক। ইহার মতে গরার্থ! আীতি এবং পরকীয় লুখের জন্য হদয়-দানই ধর্শের চনম সম্পদ

বিবাহ ১.

হইয়া, আমাঁর অভিমানকে উপহাস করে, অভিমান-বর্ধিত বুদ্ধিকে বালকের ক্রীড়ীকন্দুক বলিয়া অবলীলাক্রমে ধিক্কার দেয়, বিবেককে বাতাহত দীপ-শিখার ন্যাঁয় চঞ্চল করিয়া তুলে, কল্পনাকে প্রীতির পবিত্র পদ্মাসনে টানিয়া লইয়া যায়? এবংআমি যখনই একটু নিভৃতে বঘিয়। চিন্তার গাস্তীর্য্যে অটল হইতে চেষ্টী করি, তখনই "মনুষ্য তোমায় ' চিনি' এই বলিয়া, সু হাদি হারিয়া, আমার ভ্রকুটিভঙ্গির ভীষণতাতেও পর-মুখ-প্রেক্ষিতা পরাধীনতার ছায়া ফলায়। আমি এই জন্যেই এক এক বাঁর ভাবি যে, যদি অভীষ্ট-দাধনায় সিদ্ধি লাভ করিতে হয়, তাহা হইলে যেরূপে কেন হউক না, আমার পাঁষাণ-কঠিনা বুদ্ধির সহিত সর্বাগ্রে হদয়েরই একটা বিবাহ ঘটাইব এবং যদি তাহাও একান্ত অশক্য হইয়া উঠে_যদি হৃদয় আর বুদ্ধি বর-কন্যার বেশ ধারণ করিয়া একে অন্যকে বিবাহ করিতে কোন মতেই সম্মত না হয়, তাহা হইলে দ্বেখিয়! শুনিয়া, পরখ করিয়া, যে আমায় প্রসন্ননয়নে সম্ভাষণ করে, তাহা- কেই নমস্তন্যৈ নমস্তন্যে বলিয়া প্রীত প্রসন্নমনে এই হদয়টা একবারে, চিরজীবনের তরে, উত্নর্গ করিয়া দিয়া ফেলিব। উম্মুলন করিতে নাই বা পারিলাম, দান করিতে . আর ঠেকায় কে? এবং হৃদয়টা। যদি একবার দিয়া ফেলিতে

১৩ প্রমোদলহরী |

পারিলাম, তাহা হইলে আমার বুদ্ধি অভিমান এবং চিত্বনিহিত সংকল্পেরই বা আর বিদ্ থাকে কোথায় তখন এক বারের স্থলে অনন্তবার গর্ব করিয়া বলিতে পারিব যে, আমি আর বিবাহ করিব না। দেখ) এক- মাত্র হদয়ই আমার শক্ত হইয়াঃ আমাকে বিবাহের বন্ধনে বান্ধিতে চাহিয়াছিল; আমি সেই হৃদয়কেও এইক্ষণ বিনা মূল্যে বিলাইয়া দিয়া আমার মনোরাজ্যে নিক্ষণ্টক, নিরুপ-' দ্রব শক্রশূন্য হইয়াছি। আমি এইক্ষণ আর ভয় করিব কার ? এবং আমাকে আর উৎপীড়নই বা করিবে কে? আমার ভয় এবং- উৎপীড়ন, স্বালা যন্ত্রণা, সমস্তই এইক্ষণ পরের ঘরে হৃদয়ের সহিত হৃদয়ের যদি বিবাদ বাধে, সেখানে বাধিবে। আমার তাহাতে কি? আমি ইহাতে বরং যাঁর পর নাই মুখী হইব, এবং যে ভ্বালায় আমি ন্বালাতন রহিতাম, অন্যে তাহার ছিগুণ দ্বালায় দগ্ধ হইয়। ছুটি হৃদয়ই পুনরায় তাহার প্রাণ, মন স্বন্থদক্ষিণার সহিত ফেরত দেওয়ার অভিলাষে কাতর- স্বরে যাক্রা করিতেছে, ইহা দেখিয়া আনন্দে তামিব।

পপি

বিবাহ।

(ব্যাকরণ-রহদ্য। )

মংস্কৃত ব্যাকরণশাস্ত্র এক অতলম্পর্শ অপার জলধি। 'উহা৷ গুধু ব্যাকরণ কিংব| ভাষাবিজ্ঞান নহে। উহার অভ্যন্তরে ম্তবতি, নীতি” বাহিতা, অংগীত,যোগ, ভোগ।-এবং ইতিহানাদি আরও কত শাস্ত্রের কত নিগ্ঢুরহন্য নিহিত রহিয়াছে, তাহা চিন্তা করিলে আমার জড়বুদ্ধি বিন্ময়ে আরও জড়ীভূত হইয়া পড়ে। অনুনন্ধান করিলে জানা যাইবে যে, আধুনিক মমাজ- তত্বেরও অনেক গভীর কথাঃ উহার গভীর জলের অন্ত- স্তলে, উপলখণ্ডের ন্যায়। লুক্কায়িত আছে এখানে দুই একটি সুত্র তুলিয়া উদাহরণ দিব। বীহাঁর! ব্যাকরণে নিতান্ত বিদ্বেষী, ভাহাদিগেরও ভীত হইবার কারণ নাই। কারণ নুত্রগলি যাঁধারণতঃ সরল নুখ-পাঠা, এবং কখনও কখনও ঠিক কবিতাঁরই মত কোমল কামাগ্রদন। যথা,

১৮ গ্রমোদলহরী।

৫৫ দশ সমানাঃ 29

অর্থাৎ দশ জনকে লইয়। সমাঁজ, সুতরাং সমাজে দশ জনই সমমান ।৯

এই এক নুত্রেই সাম্যবাদের সারোদ্ধার শেষ- নিদ্ধান্ত অতি সংক্ষেপে পরিব্যক্ত হইয়া রহিল। ইহার পর আর, ঘামাঞজিকদিগের মধ্যে এক জনে আর এক জনের উপর বড়াই করিবে কি বলিয়া ? যাহার অর্থ আছে, তাহার হয় বিদ্যা নাই। যাহার বিদ্যা আছে, তাহার হয় অর্থ নাই। তুমি জাঁতিতে বড়, কিন্তু চরিত্রে ছোট; আর এক জন জাতিতে ছোট হইয়াও চরিত্রে বড়” চরিত্রের মহত্বে তোমার গুরুস্থানীয় কাহারও রূপ আছে গুণ নাই, কাহারও গু৭ আছে রূপ নাই। কেহ ঘোনার নিংহারনে বণিয়াও প্রকৃতির নীচতায় পিশাচ-নদৃশ ; কেহ কাঙ্গালের পর্ণকুগীরে বাস করিয়াও

* দুর্গনিংহকৃত বৃত্তি ব্যাখ্যা অবশ্যই অন্য প্রকার। কিন্তু কোন্‌ বৃত্তি কোন. ব্যাধ্য। স্থত্রের সহিত বেশী মিলে, তাহা রিচার করিয়া অবধারণ করা আমাদিগের পক্ষে অসাধ্য প্রবন্ধ- লেখক শ্রীমান, কল্যাণভট্ট পরিব্রাজক। দুর্গসিংহের পথ পরি- ত্যাগ করিয়া, ভাল করিয়াছেন কি না, পাঠক ক্রমে তাহার পরিচয় পাইবেন।

বিবাহ | ১৯,

জ্ঞানের জ্যোতি এবং প্রক্লতির উচ্চতাঁয় রাঁজরাজেশ্বর |

কিন্ত, যদিও সকলেই সমাজের খাথনিতে সমান, তথাপি পেই দশ জন পামাজিকের মধ্যেও নবর্ণত| অর্থাৎ বর্ধাঙ্গীন নজাতীয়তা কেবল যোড়াঁয় যোড়ায় | যথা,

« তেযাং দ্ধ দ্বাবন্যোন্যস্য সবর্ণো।”

অর্থাৎ, ইতঃপুর্কে যে দশ জনের কথা কথিত হইয়া আসিয়াছে, তাহারা দুইটি দুইটি করিয়া, যোড়ায় যোড়ায়, একে অন্যের সবর্ণ ।৯ঈ

এই য়ে যৌড়াবান্ধ যুগল ভাঁবের উল্লেখ হইলঃ ইহাই দাম্পত্য-ধর্মের মূলনুত্র | কেন না, জগতে দম্পতি অর্থাৎ স্বামী স্ত্রীভিন্ন কে আর কার সহিত-যোড়াবান্ধা যুগল বলিয়। বর্ণিত হইতে পারে ? স্বামী স্ত্রী শুধুই পরস্পরের সমান নহে কিন্তু তাহারা মান অথচ.পরস্গরের অবর্ণ। হা মিল! তুমি কোথায়? তুমি স্বামী স্ত্রীর সাম্য এবং স্ত্রীজাতির সমান অধিকার বিষয়ে যত কিছু লিখিয়া গিয়াছ, ভারতের একজন বৈয়াকরণ যে, তোমার ' সহজ বতনর পূর্বে" এত অক্সাক্ষরে তাহা সুত্রে গীথিয়! গিয়া- ছেন, ইহা তুমি ব্বপ্ণেও জানিতে পাঁও নাই

* এবার হুত্রার্থে কোন গোলযোগ নাই। কারণ সুত্রে আছে দো দো" এবং তাহার ম্পষ্ট অর্থ ছুইটি ছুইটি করিয়া

.... গ্রমোদলহরী।

দম্পতির এই নাম্যনীতির মধ্যে আরও কত গৃঢ় কথ! আছে, তাহারও আলোচনা কর। স্বামী স্ত্রী পরম্পরের সমান, পরম্পরের বর্ণ, অথচ আবার তাহাদিগের মধ্যে পরম্পরে একটুকু বিচিত্র পার্থকা আছে। যথা,

“পুর্ব্ো হম্ব$, পরো! দীর্ঘই 18

অর্থাৎ সাংসারিক নসুখ-নম্পদের মকল কথায়ই স্বামী একটুকু ত্রম্ব এবং স্ত্রী একটুকু দীর্ঘ। স্বামীর কধ্বনি যেখানে নিখাঁদে পড়িয়া থাকে, স্ত্রীর মধুর কণ্ঠের মোহন- ধ্বনি, ষেখানে ধৈবতের ভুঙ্কারে উঠিয়া, প্রেমের বীণায় নানারনে বঙ্কার দেয়। নুত্রকার এখানে স্বামীকে ছোট বলেন নাই। কারণ, তাহা হইলে সে কথা বাম্যবাদের বুকে বাধিত। তিনি ছোট না বলিয়। হম্ব বলিয়াছেন। স্ৃতরাৎ হম্বাতা নিশ্চয়ই “ম্বর-পরক্রিয়া* বিষয়ক | স্থলে এইরূপ জিজ্ঞাস্য হইতে পারে যে, স্ত্রীর কণঠন্বরে এই রস-মধুরা দীর্ঘতা কেন ? ব্যাকরণে ইহারও উত্তর আছে। স্ত্রী দ্রবময়ী,_

* কলাণতট্ট এবার ছুইটি হৃত্র মিলাইয়! এক হুৃত্র করিয়াছেন। নব্য বৈয়াকরণের মধ্যে অনেকেই এই পথ দেগাইয়াছেন। নুতরাং ইহা! প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধ নহে।

বিবাহ। ২১

6৫ স্ত্রী নদীবগু বঙঈ্গদেশের বিদ্যারদ্ব তর্কবাগীশ প্রভৃতি পণ্ডিতবর্ যে কেন গুধু ব্যাকরণের *্* অধ্যয়ন অধ্যাপনা লই- য়াই সমস্ত জীবন অতিবাহিত করেন, এই একটি সুত্রের অর্থবিব্ৃতিতেই তাহার প্ররুত অর্থ পরিষ্ফুট হইতেছে। সুত্রটি কেমন মনোজ্ঞ, কি মধুর ! স্ত্রী নদীবৎু অর্থাৎ স্ত্রী নদীর মত, অথবা স্ত্রী আর নদী রান |" প্রাচীন প্ডিতদিগ্নের মুখে শুনিতে পাই যে,এক দেশের এক রাজার ছেলেঃ তীহাঁর বিদ্যাভিমানিনী বিনো*

* এই ব্যাকরণের এক নাম কাতম্ত্, আর এক নাম কৌমার এবং ভূতীয় নাম কলাপ। কাতন্ত্র শবের অর্থ অল্প শান্ত, অর্থাৎ অন্ন বয়সের উপযোগী আমোদের কথা কৌমার মানে কুমারের যোগ্য অর্থাৎ যুব-জন-্পৃহণীয়। কলাপ শব্দের অর্থ অধিকতর রসাল। অর্থাৎ যাহ! পড়িয়া রদ-শাঘের চৌষটিকলায় বিদ্যা জন্মে তাহার নাম কলাপ। বীহ্ারা অঃ ইতি বির্জনীয়ঃ » এই স্ৃত্রের বৃত্তি পড়িয়াছেন, তাহারাই কথার সাক্ষী। কিন্ত রনিকতার অংশটা বৃত্তিতেই কিছু বেশী।,

1 ছুর্গসিংহ হৃত্রের যেধপ জটিল ব্যাখ্যা করিয়াছেন,ভাহা সাধা- রণ বুদ্ধির হ্থগম নহে। ম্মৃতরাংই কল্যাণক্কত ব্যাখ্যা প্রামানিক।

২২ গ্রমোদলহরী।

দিনীর কাছে শব্দার্থের বিচারে অথবা ন্বর-প্রীক্রিয়ার অনুচিত দীর্ঘতায় পরাভব পাইয়া, প্রাণত্যাগ করিবার সংকল্প করিয়াছিলেন, এবং তার পর তাহার গুরুদেব কট আঘিয়া তাহাকে এইরূপ কএকটি স্থত্র শিখাইয়াই বর্ব- শাস্ত্রে বর্ধজ্ঞ করিয়া তুলেন। কাহিনীটি ইতিহাসের চক্ষে নত্য কি না, তাহা বলিতে পারি না। কিন্তু, এই শেষোক্ত নুত্রটি যেরূপ হৃদয়গ্রাহী, রস-ভাব-গভীর এবং রহম্যপূর্ণ, তাহাতে ইহা! সহজেই অনুমিত হইতেছে যেঃ সেই পদাঘাত-পীড়িত “প্রণয়-ত্রীড়িত” রাজনন্দন, ইহা পাঠ করিয়া, আর কোন শাস্ত্রে পদ-প্রতিপত্তি প্রাপ্ত হইয়া না থাকিলেও, সমাজ-বিজ্ঞানের পুরাতন তত্ত্বে অতি সহজেই পণ্ডিত হইয়াছিলেন

স্ত্রী নদীবৎ! ,অহো কি জ্ঞান-গাভী্্য ! অহেো কি সুক্ষানুসন্ধান ! কিবা দার্শনিক কিবা বৈজ্ঞানিক, দকল- কেই এই নুক্রীর্থের নিকট মাথা নোয়াইতে হইতেছে। কে এই সুত্রের প্রতিবাদ করিবে? স্ত্রী প্রারতই নদীর

* গুরুদেবের মাম স্ধবন্মাচাধ্য। তিনি ভারতবর্ষে একজন বিখ্যাত বৈয়াকরণ বলিয়া পরিচিত ছিলেন। সর্ববর্ধাচার্ধয প্রণীত দুপ্রনিদ্ধ কমাগ ব্যাকরণ পূর্ববঙ্গের গৃহে গৃহে পঠিত পাঠিত হইয়া থাকে।

বিবাহ। হত

গ্বায়। কোথাও মৃদুবাহিনী, মৃদ্ধ-মধুর-হাঁসিনী, কুলু-কুলু- কলশনাদিনী; কোথাও তরঙ্ষ-ভঙ্গি-ভয়ঙ্করা তট-ঘাতিনী কুল-নাশিনী। কোথাও পবিত্র তীস্বরূপা, প্রসন্নলিলা ভাগীরথী। কোথাও প্রমোদ-লীলাময়ী ভোগবতী ; কো- থাও ক্ষীণ-তোয়া সরন্বতী $ কোথাও করতোয়া, কর্ম নাঁশা,অথবা তপতী ' কি ইরাবতী। যদি সুখেঃ যোহাগে * কিংবা হ্বর-তরঙ্গে ভানিয়া যাইতে চাও, তাহা হইলে ্ত্রীই নদী | যদি দুঃখে একবারে ডূবিয়৷ রহিতে চাও, তাহা হইলেও স্ত্রীই নদী কিন্ত,আমি এই দুইয়ের সাদৃশ্য বর্ণন লইয়া আর বৃথা শ্রম করিতে যাইতেছি কেন?

* সক্রেতিশের সহধর্িণীরে « করতোয়া” বলা যাঁইডে পাঁয়ে। কেন না, তাহার হৃদয়ে যখনই ক্রোধের তুফান বহিত, তখনই তিনি পতির গায়ে জল ঢালিয়া দিতেম। * কর্নাশা ঠাকু- রাণীরা আর এক শ্রেণির তীঙ্কারা গায়ে জল দেন না, কিন্তু উৎ* সাহের আগুনে জল ঢালিয়া কর্ম নাশ করেন।

1 বীহাদিগের সমন্ত কথায়ই সন্তাপের নুদীর্ঘনিংশ্বাস পরিলক্ষিত হয়, এবং ফাহারা বিলাপ পরিতাপের কথা ভিন্ন আর কোন কথাই ভালবাসেন না, তাহাদিগকে তপতী বলা যায় নাকি? ইরাবতী পাধাণ-ভেদিনী। পৃথিবীর কোথাও প্রন্কত ইরাবতীর অভাব নাই।

২৪ গমোদলহরী |

বাহারা ব্যাকরণের আলোকে বিজ্ঞান পড়িয়াছেন, অথবা বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাকরণের নুত্রার্থ বুঝিতে যদ্্ পাইয়াছেন, তাহারা নকলেই একবাক্যে ইহা স্বীকার করিবেন যে,্ত্রী নদীবৎ।

সত্রার্থে যেমন ব্যাকরণের অপূর্ব বৈভব, শব্দার্থের ব্যুৎ্পত্তিতেও ব্যাকরণের তেমনই অপরূপ গৌরব একমাত্র ছুহিতা শব্দের বুযুৎপত্ভিতেই এই কথার প্রামাণ্য. পরীক্ষা করিতে পার।

ব্যাকরণে ধাহাঁর সামান্য দৃষ্টি আছে, তিনিই জানেন যে, দুহিতা এই শব্দটি দুহ ধাতু হইতে নিষ্পন্ন, এবং দুহ ধাতুর অর্থ দোহন। ইয়ুরৌপের স্ুপ্রানিদ্ধ শাব্দি- কেরা, এই দুহ ধাতুর উপর দৃষ্টি রাখিয়া,এই রূপ ব্যাখ্য করিয়াছেন যে, যখন প্রাচীন আধ্যসম্তানেরা কৃষি- কার্যের উপরই সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করিতেন, তখন তীাহাদিগের প্রাত্যেকেই গোস্বামী অর্থাৎবহুনংখ্য গোরুর অধিপতি ছিলেন। গৃহস্থ সমস্ত দিন ক্ষেত্রে কৃষিকার্য্য করিতেন, কন্ত। গৃহে থাকিয়া গোদোহনে ব্যাপৃত রহি- তেন। এই নিমিত্বই গৃহস্থের নাম ক্ষেত্রপাল, এবং এই নিমিত্তই কন্যার নাম ছুহিত1। প্রিয়তম জ্ঞানানন্দও দুহ ধাডুকেই দুহিতা শব্দের মূল বলিয়া স্বীকার করেন, কিন্তু

বিবাহ |

তিনি অন্যরূপে ধাত্বর্থের ব্যবহার দেখাইয়া থাঁকেন। তাহার মতে পিতৃকুলরূপ কামধেন্ুকে দোহন করাই দুহিতার প্রধান কাধ্য ; এবং যিনি পিতৃকুলকে যে পরি- মাণে অধিক দোঁহন করিতে পারেন, তিনিই মেই পরি- মাণে উত্কু্তর দুহিতা |% ইহার কোন্‌ অর্থ অধিকতর সঙ্গত, তাহা লইয়া! এইক্ষণ বিচার কি বিতগ্ডা করা “নিশ্রয়োজন | কারণ, ইহার যে অর্থই শ্বীকার কর, তোঁ- মাকে অবশ্যই ইহ। মানা লইতে হইবে যে, ব্যাকরণ- শান্তর সর্জতোভাবেই সমাজবিজ্ঞানের ভাষ্যপ্রদীপ।

বিবাহ সশ্বন্ধেও ব্যাকরণে এইরূপ অনেক মৌলিক ব্যাখ্যা! পাওয়া যাইতে পারে। বিবাহ কি?-বিবাহ কেন ?-বিবাহের শেষ পরিণতি কিসে ? এই মকল কথা লইয়া সকলেই ইতিহাসাঁদি অন্ধশাস্ত্রের, আলোড়ন করিয়! থাকেন; এবং ইহা নিতান্ত দুঃখের বিষয় যে, কেহই ব্যাকরণের উজ্্বল আলোকে এই জটিল ,বিষয়ের মূল-

* যাহারা পতিকুলরূপ কামধেনুকেও, ছুহিতার ভাবেঃপিতৃকুলবৎ দোহন করেন, তাহাদিগকে কি বলা যায় তাহ! ভউবৈয়াকরণ ভাবিয়া দেখিয়ছেন কি? এই বাঁর আর তাহার প্রাণের বন্ধু জ্ঞানা" নন্দের দোহাই দিলে চলিবে না। কথাটা একটু কঠিন হইয়া দড়াইতেছে।

$

২৩ গ্রমোদলহরী।

তত্ব পাঠ করিতে যত্দুপর নহেন | কিন্তু, আমার এইরূপ বোধ হয় যে, ব্যাকরণের সান্নিধ্যে উপস্থিত হইলে উল্লি- খিত নমস্যাত্রয়ের সুচারু মীমাংসা করিতে মুহ্ুর্তেরও বিলম্ব হয় না।

ব্যাকরণের মতে বিবাহ কি ?-না, প্রবাহ বিবাহে জীব-প্রাবাহ, বিবাহে সংসারপ্রবাহ এবং বিবাহেই সাংসা- রিক নুখ-ছুঃখের চিরপ্রবাহ | বিবাহ না থাকিলে, এই' ্টিগরবাহ প্রত্রবণেই শুকাইয়া যাইত, জীব জীবনের এবাহ নিরুদ্ধ রহিত, এবং বিশ্বজগতের পরমাণুপুঞ্জ উচ্ছ.- সবল আবর্তে অনন্তকাল নৃত্য করিত। সুতরাং বিবাহ আর জীবন-গ্রবাহ এক কথ |৯ বিবাহ ন1 থাকিলে, এই সংসারে লতা থাকিত না, পাতা থাকিত না, ফুল থাকিত না, ফল থাকিত নাঁ, বন থাকিত না, উদ্যান থাকিত না, বনেরৃক্ষ থাকিত না,উদ্যানে অস্কুরের উদ্দাম থাকিত না, জলে মাছ থাকিত না, আকাশে পাঁখী উড়িত না, সুতরাং

* পাঠকের ইচ্ছ! হইলে, তিনি ব্যাকরণের এই সমস্ত কথার সহিত ডারউইনের যৌন-নির্বশাচন বিষয়ক নব্য বিজ্ঞান অথবা বৈজ্ঞানিক প্রণালীতে রচিত নুতন দর্শনাদি শান্ের নারনি্ধান্ত মিলাইয়া দেখিতে পারেন।

বিবাহ | ২৭

বিবাহই এই সংসার ঞ্ এবং নাংনারিক সম্পদ সৌন্দ- ধ্যের আদি প্রাবাহ। বিবাহ না থাকিলে প্রেমিকের প্রেম থাকিত না, বিরহীর বিরহ থাকিত না; কবির কাব্য থাকিত না, কবিতায় কুটিল কটাক্ষের কথা থাকিত না, পৃথিবীতে পরিবার-বন্ধন এবং পারিবারিক সুখ দুঃখ, হর্য বিষাদ কিছুই থাকিত না| নুতরাং বিবাহই ণ" * সুখ-দুঃখের চিরপ্রবাহ | উহা! কাহারও ভাগ্যে নিরব- চ্ছিন্ন ছুঃখপ্রবাহ এবং অনেকের ভাগ্যে সুখ-দুঃখের মিশ্রিত প্রবাহ | কিন্তু উহ যে সর্ধাংশেই একটি তর-তর- বাহী অথবা মন্থরগামী প্রবাহ, জ্যোতস্সার তরঙ্গে তরঙ্গা- গ়িত অথবা অন্ধকারের অবঘাদে আবৃত সজীব প্রবাহ, তাহাতে অগুমাত্রও বন্দেহ নাই |

বিবাহ কেন ? অর্থাৎ বিবাহের মূল উদ্দেশ্য কি ?-

* জাপনার কয় বিবাহ এইরূপ প্রশ্ন না করিয়া আপনাঁয় কর সংসার, এইবপ প্রশ্ন করাই প্রাচীন প্রথা ছিল। ক্ষিস্ত সংসার শব যে স্থলে সেই অর্থে বাবহৃত হয় নাই, ইহা বলা বাছুল্য।

1 এই প্রবন্ধে বিবাহ শব্ের অর্থ নিশ্চয়ই এক দিকে বিজ্ঞান আর এক দিকে প্রেম বিরহের অনুরোধে একটুকু সম্প্রসারিত হইয়াছে, এবং লেখক নিশ্চয়ই মহুর ব্যবন্থ। এবং কাব্যনাটকাদির বর্ণিত অবস্থাও চিন্তা করিয়াছেন

২৮ _. গ্রমোদলহরী |

না, নির্বাহ বিন! বিবাহে মনুষ্যের জীবন-নির্বাহের কিছুই সম্ভাবনা আছে কিনা, তাহা বিচার করিয়। দেখ | যাহাঁকে সাধারণ লোকে সাধারণতঃ জীবনযাত্রা বলে, আমি শুধু তাহারই কথা ব্লিতেছি না। কিন্ত পৃথিবীর অসাধারণ লোকের! অপাধারণভাবে যাহাকে জীবনের চরমলক্ষ্য পরমগতি বলিয়া! নির্দেশ করিয়া ছেনঃ তাহাঁরও নির্ধাহ বিষয়ে বিবাহই প্রধানতম সাধন, বলিয়া নির্দিষ্ট হইয়াছে কেন না, বিনা বিবাহে মনুষ্য- ভবের পূর্ণ বিকাঁশ এবং মনুষ্যোচিত প্রীতি, ভক্তি, মহত্ব, মাধুর্য, উদারতা দৌন্দ্য্য-প্রিয়তা প্রভৃতি ভাবের পরিপূর্ণতা লাভ অনস্ভব | সুতরাং, ইহা প্রমাণিত হই" তেছে যে, বিবাঁহেই মনুষ্যের নির্বাহ,-আশার নির্বাহ) আকাজ্ষার নির্কাহ, জীবনযাত্রার নির্বাহ, জীবনের উন্নতি গতি এবং নিত্য নুতন বিবর্ত পরিবর্তের নির্বাহ "

* পূর্বতন দার্শনিকদিগের মধ্যে প্লেটো, অধ্যাত্মবাদের আচার্ধ্য- দিগের মধ্যে ন্ুইভেনবর্গ এবং আধুনিক মনম্থিমমাজের অগ্রগণ্য চালক কোম্ট মিলের লেখা আর এই শেধোক্ত পণ্ডিয়ের জীবনচরিতের সহিত বিবাহবিধিয় গৃঢ়ততব তুলনা করিয়া দেখিলেই উল্লিখিত কথার মর্শার্থ ম্প্ উপলব্ধ হুইবে।

বিবাহ ২৯

বহুবিবাহ ধীহাদিগের জীবনের একমাত্র ব্যবসায়, অর্থাৎ যাহার! দালালি ঘটকাঁলি, কিংবা ওমেদারি চাটুকারি প্রস্ৃতি কোন রূপ সম্্ান্ত বিষয়কার্য্য, অথব! সভ্যমহলে অল্লীল কথার, নব্যমহলে অস্পৃশ্য মদিরার অভব্য ছেলেমহলে অন্তঃশোষক সুদের বাণিজ্য প্রাভৃতি কিছুই ন! করিয়। বিবাহের প্রনাদাৎ্ই পঞ্ধব্যঞ্জনে পরি- ৃপ্ত হইয়া থাকেন-_-এবং ধীহারা নিজ নিজ পত্বীদিগকে পত্তনীতালুক মনে করিয়! খাতার তাহাদিগের নাম ধাম আয় ব্যয়ের তালিকা রাখেন? তাহারা হয়ত সাধারণ মতেরই পোষকত1 করিয়া বলিবেন যে, বিবাহই যে নির্বাহ এই স্বতঃদিদ্ধ চিরপ্রনিদ্ধ কথার প্রামাণিকতার জন্য এত পুঁথি পত্র এবং এত লেখক ভাবুকের নাঁম করিবার প্রয়োজন কি? এই প্রশ্নটি আঁপাতিতঃ নিতান্ত সহজ বৌধ ন। হইতে পারে। কিন্তু আমি প্রথমেই ইঙ্গিতে ইহার উত্তর করিয়াছি এবং এইক্ষণ স্পষ্টতার অনুরোধে অধিকতর স্্ করিয়া বলিতেছি যে, নির্বাহ বলিলে তাহারা যাহা বুঝেন, জ্ঞানভ্রান্ত অনাধারণেরা তাহা বুঝেন না প্রাচীন শাস্তত্রান্তেরা ভার্য্যাকে শরী- রা্দাক্চ মনে করিয়া! জীবম নির্বাহের যেরূপ অর্থ করিয়া!

& “পরীরার্দা স্বতা জায় পুণ্যাপুণ্যফুলে সম11”

৩৯ . গ্রমোদলহরী |

গিয়াছেন। আমিও স্থলে প্রেমভ্রান্তিতে নির্বাহ শব্দের মেই অর্থই গ্রহণ করিলাম। যদি তাহা না করিয়া শাল বনাত, খাট পালঙ, গাড়ী ঘোড়া, বাড়ী ঘর, অথবা দক্ষিণ হস্তের দক্ষিণালাভকেই নির্বাহ বলিয়। স্বীকার করিতাম, তাহা হইলে আমি বিবাহের পরিবর্তে বেনেতি বস্ত লইয়! বণিগ্ুত্তি অথবা! বাঙ্গালা পুস্তকরচনা প্রভৃতি অন্য কোন অক্লেশনাধ্য অর্থকর ব্যবনায়ের, জন্যও ব্যবস্থা দিতে পারিতাম।

ইহার পর আর এক প্রশ্ন রহিয়াছে, বিবাহের শেষ পরিণতি'কিনে ? ব্যাকরণের উত্তর”_নংবাঁহে। সংবাহ শব্দের প্রচলিত অর্থ পাঁদ-মদ্দিন | ব্যাকরণের এই ব্যব- স্থাটি পাঠকবর্গের বড়ই অপ্রীতিকর জ্ঞান হইতে পারে। কিন্ত বাঁহারা বিজ্ঞ ,ও বহুজ্ঞঃ তাহারা নরলহৃদয়ে স্বীকার করিবেন যে, পৃথিবীর বহুস্থলেই যেরূপ বিবাহ এইক্ষণ গরচলিত রহিয়াছে, পাদমর্দনে কিংব! পাদবন্দনেই তাহার পরিণাম বিবাহে পত্রী পতির দানী, অথবা পতি পত্বীর দান। কেন না, বিবাঁহ বিষয়ে জগতে প্রেমভক্তির সুখ-মুন্দর সাম্যবিধি এখনও গচলন পায় নাই | যেখানে পত্রী পতির ক্রীতদানী। দেখানে পাদবেবাই তাহার প্রধান ধর্ম, এবং আহার বিহারের সঙ্গে নঙ্ধে প্রহার

বিবাহ ৩১

অথবা মংহারেইস্* তাহার শেষ দক্ষিণা | আঁর, জামাই- বারিকের চিড়িয়াখান। প্রভৃতি যে যে স্থলে পতিটি পত্ধীর ক্রীতদাদ, মেখানেও পাদলেহন, পাদদেবন পাদমদ্দিনই তাহার জীবনের একমাত্র কার্য, এবং মধ্যে মধ্যে প্রণয়- জলধির প্রলয়োচ্ছান স্বরূপ পদাঘাতই তাহার প্রধান দক্ষিণা যেখানে প্রীতির দেই পরমা গতি এবং প্রণয়- ভুনিত বাম্যব্যবস্থার সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হয়, সেখানেও কি পাঁদনংবাহরূপ ক্রেশকর অথবা কমনীয় নীতির যম্যক্‌ উন্মুলন হইয়া থাকে? শাস্ত্রে এমন লিখে না। ভক্ত কি

জয়দেবের গীত-গোবিন্দে আছে,--

“মম শিরদি মগ্ডনং দেহি পদ্রপল্পবমুদারম্‌ |” * এখানে অনুপ্রাসরূপ উপনর্গের অনুরোধে প্রহারের সঙ্গে হারও আপনি আসিয়া পড়িয়াছে। যথা, উপনর্গেণ ধাত্বর্থো বলাদন্যত্র নীয়তে , প্রহারাহার-নংহার-বিহার-পরিহারব্চ।

কিন্তু যেখানে প্রক্কৃতিগত উপনর্গ একটু বেশী প্রবল, সেখা- নেও যে আহার রিহারের সঙ্গে প্রহার এবং প্রহারের নঙ্গে ংহার কি পরিহার আসিয়া উপস্থিত না হয়, এমন কথা সাহস পূর্বক বলিতে পারি না। ধীহায়। ইংরেজী বিন! বুঝেন না» তাহাদিগকে বলিয়] দেওয়! আবশ্যক যে, পরিহার মানে 7)15008,

৬২ গ্রমোদলহরী।

অর্থাৎ। আমার শিরের ভূষণ, .শিরে তুলি দেও প্রিয়ে রাঙা চরণ ভবভূতি রামচন্ত্রের প্রণয়বর্ণনায় লিখিয়া গ্িয়াছেন,_- “দেবি! দেবি! অয়ং পশ্চিমস্তে রামশিরসা পাদ- পহজন্পর্শঃ |” অর্থাং_-দেবি, রামের মাথা যে তোমার পায়ে বুষ্টিত হইত, আক্ধি এই তাহার শেষ নুতরাং ইহা নিঃমংশয়িতরূপে প্রতিপন্ন হইতেছে যে, কি ভাল অর্থে, কি মন্দ অর্থে, কি বিবাঁহবন্ধনের উত্কর্ষে, কি উহার অপকর্ষে, কি প্রীতির পূর্ণবিকাশে, কি প্রীতির অপূর্ণ আতামে, সকল স্থলে এবং সকল, অবস্থাতেই বিবাহের শেষ পরিণতি বংবাহে। যদি তুমি একটা বড়ই কিছু হও, তাহা হইলে তিনি তোমার পদ-বংবাহ করিতেছেন, এবং যদি তিনি একটা বড়ই

* এই টুকু পড়িলেই বোধ হয় যে, সীতার পদ-সংবাহন অথব! ভদীয় স্থুকোমল পদারবিনে শিরোলুষ্ঠন পুরুষ-প্রবীর শ্রীরাম" চন্দ্রের নিয়তকর্থের মধ্যে পরিগণিত ছিল। নতুবা! কবি এখানে পশ্চিয় শবের প্রয়োগ করিতেন না। পশ্চিম অর্থ শেষ।

বিবাহ। ৩৩

কিছু হন, তাহা হইলে তুমি তাহার পদ-ংবাহ করিতেছ। অথবা, যেখানে উভয়ে উভয়ের সমান, সেখানে উভয়েই উভয়ের সংবাহন্ুখে বিবাহের নার্থকতা সম্পাদনে যত্বু- বান আছ।

ব্যাকরণে আরও এই এক গুরুতর কথা জাঁনা- যাইতেছে যে, প্রাবাহ_নির্কাহব_বংবাহ এই যে বিবাহ- ধন্ধনের তিন ভাব অথবা তিন অবস্থা ব্যবস্থাপিত রহি- য়াছে, এই তিনেরই মূল ধাতু বহ অর্থাৎ বহন। সুতরাং ইহা মহজেই উপলব্ধ হইতেছে যে, যখন বিনা বাঁহনে বহন হয় না, তখন যেই তুমি বিবাহ করিলে, অমনই তুমি বাহন হইলে আগে বিধুক্ত এবং অতএবই উন্মুক্ত মনুষ্য ছিলে; বিবাহের পর-ক্ষণ হইতেই নিযুক্ত এবং অতএবই ভার-যুক্ত বাহন বনিলে।**আঁগে পাখীর মত উড়িয়া বেড়া- ইতে, জলের মত হাদিয়া খেলিয়া, ঢেউ তুলিয়া, চলিয়া যাইতে; বিবাহের পর-মুহূর্ভ হইতেই কিবা জীবনের প্রবাহে, কিবা জীবনযাত্রার নির্বাহে, সকল ভাবেই পরের ভার হৃদয়ে লইলে_আপনার নুখ-ছুঃখ এবং বর্তমান

“বনিলে * এই ক্রিয়াপদটি ত্রজভাষ| হইতে বাঙ্গালায় গৃহীত হইয়াছে। ইহা এইক্ষণ বঙ্গের প্রায় সর্বন্র প্রচলিত

৩ঃ গ্রমোদলহরী |

ভবিষ্যতের দুর্কৃহ ভাঁরের সঙ্গে সঙ্গে পরের মুখ-ছুঃখ এবং বর্তমান ভবিষ্যতের অধিকতর ছুর্দহ, দুর্বিষহ আর এক নূতন ভার মাথায় লইয়া, বংযারের কাটাবনে “সুখ- ক্রি” মনে, পাদ-চারণ করিতে আরম্ভ করিলে

এই অবস্থা নিতান্তই বাঞ্চনীয় কি? বাঞ্চনীয় না হইলে কলেই প্রবাহে প্রবাহিত হইয়া জীবননির্বাহের উপায় দেখিতেছে কেন ?' এবং যেখানে প্রীতির প্রবাহ কিংবা জীবনযাত্রার সাধারণ কি অনাধারণ নির্বাহ, এই দুইয়ের একও সম্ভবপর নহে, ্েখানেও পরকীয় পদ-মং- বাহ-সুখে আত্মসমর্পণ করিয়া আত্মাবগাঁননা করিতেছে কি জন্য? কিন্তু তথাপি কেন জানি না, এই প্রাবাহ অথবা নির্বাহ ইহার কিছুতেই আগার চিত্তের স্ফু্তি হয় না। জ্ঞানানন্দ ঘেমন তাহার প্রলাপে বলিয়াছেন যে, তিনি কখনই বিবাহ করিবেন না, আজি ব্যাকরণের বিজ্ঞাননুত্র সম্মুখে লইয়া আমিও বেই কথাই প্রকারান্তরে বলিতেছি,মামি বিবাহ করিব না। আমার মুখ্য ভয় নংবাহে। আমি কোন মতেই কাহারও বাহন হইতে রাঁজি নহি। অনেকে আপনি কাহারও বাহন না হইয়া! অন্যকে আপনার বাহন বানাইতে পারিলে বড়ই সুখী হইয়া থাকে কিন্ত নীতির নাম কাল*কুট কণিক-

বিবাহ ৩৫

নীতি | ইহা অধিকতর দোষাঁবহ | ইহা ম্বভাবতঃই পর-পেষিণী, পর-ঘাতিনী। ইহা অন্যের সুখ, স্বত্ব ্বাধীন-্ফূর্তির উপর দিয়া, পর্বত-অষ্ট শিলাখণ্ডের ন্যায়, ভাঙ্গিয়া চুরিয়াঃ গড়াইয়া৷ পড়িয়া, চলিয়া যায়; পরের ভাবনা ভাবিবার অবকাশ পায় না। অবকাশ পাইলেও ইহা পরের ভাবনা ভাবে না, পরের পোড়ায় পোড়ে না, পরের দুঃখে দ্রবে না। আমার অস্ত-পিপান্ু প্রাণ এই রূপ বিষাক্ত বিদ্বি্ বিধির পঞ্ষপাঁতী নহে। আমি আপনি অন্টের বাহন হইতে যত না অসম্মত, অন্যকে আমার এই ক্ষুদ্র জীবনদন্বন্ধীয় ক্ষুদ্র ভাবের বাহন বানাইতে তদ- পেক্ষ! শত সহস্রগুণ বেশী বিরক্ত সুতরাং বিবাহ বিবাহের ব্যাকরণ আমার জন্য নহে | আমি ব্যাকরণের গিকাকার আমি আজিও যেমন একা'আছি, চিরদিনই এমনই একা রহিব ।__এবং একা থাকিয়া, এই ভাবে, এই ভবের হাটে, ব্যাকরণাদি বিবিধ শাস্ত্রের ঠীকা লিখিব।

পাস

ঘোমটা

দেশে ঘোমটাঁর ব্যবহার কত কাল অবধি ? ইতি- হাদে এই জিজ্ঞানার দদ্ুত্তর নাই। অনেকেরই এই রূপ ধারণা যে, হিন্দুর সুখ-স্বাধীনতাঁর সময়ে হিন্দু মহিলা- দিগের মধ্যে ঘোঁমটাঁর প্রচলন ছিল না;_যে অবধি ভারতে যবনের অত্যাচার, ভারত-ললনার মু মুগ্ধ মুখ- মগ্ডলেও দেই অবধিই ঘোমটার আবরণ

কথা অংশতঃ সত্য হইলেও আমার নিকট দর্কতো- ভাঁবে সঙ্গত বোৌঁধ হয় না। ভারতবর্ষে পূর্বেও যদি কোন না কোন রূপ ঘোমটাঁর ব্যবহার না থাকিবে, তবে অব- গুন অবগুষ্িকা প্রভৃতি শব্দ আদিল কোথা হইতে ? বিক্রমাদিত্যের, সমনীময়িক নাহিত্যে ইহার ভূরি প্রয়োগ ৃষ্ট হয়, ব্যামের মহাভারতে ইহার উল্লেখ আছে, এবং অনুমন্ধান করিলে তওৎপূর্ববর্তী গ্রন্থাদিতেও যে ইহা দৃষ্ট হইবে, তাহাতে দন্দেহ নাই |

কিন্তুঃ ইহাও অবধারিত যে, এখনকার ঘোমটা আর তখনকার অবগুধন এক রূপ কিংবা একই বন্ত নহে। এখনকার কুল-কামিনীরা, কোন কোন স্থলে সুর্য চনত

ঘোমটা ৩৭

তরু লতা এবং পিঞ্জর-রুদ্ধ! বিহঙ্গীর নিকটও ঘোঁমটা দিয়া থাকেন$ তখনকার কুল-কামিনীরা অপরিচিত বভা স্থল ভিন্ন প্রায়শ£ কোন স্থলেই মুখে অবগুঠন দিতেন নাঃ এবং ধাহাঁদিগের সহিত স্নেহ মমতার কোন রূপ সম্পর্ক কিংব। ভাল পরিচয় থাকিত, তীহাদিগের নিকট কখনও অবগুঠঠন দিয়া, শারদীয় উৎসবের অবশুষঠনার্তা একদলী-বধূর ন্যায় দণ্ডায়মান হইতেন না| তাহারা হজ প্রভৃতি গুরুজনদিগ্ের নিকট কন্যার ন্যায় থাকিতেন, দেবর ননান্দ ্রভৃতি ন্বনম্পর্কিত প্রিয় ব্যক্তিদিগকে ভ্রাতা ভগিনীর মত জানিতেন, এবং কি প্রতিবেশী, কি পৌরবর্গ, কি দূরাগত পুজ্য অতিথি, কি অভ্যর্থিত নাধু সঙ্জন, সকলের নিকটই নিরবগ্ুঠন কথোপকথন নির্্নক্ত বিচরণে অধিকার পাইতেন্ন। , কালিদাদের শকুন্তলা, দ্ুস্মস্তের জন-কোলাহল-পূর্ণ অদৃষ্টপূর্ক রাজসভায় আবিয়! অবগুষঠন * ব্যবহার করিয়া- * যথা বঙ্গান্থুবাদ__অভিজ্ঞান শকুস্তলে,-" প্রাজা | কে হন্দরী খষিদের মাঝে, অবগুষ্ঠে আবরি বদন? পাও্পত্র অন্তরালে ্লিপ্ধরুচি কিসলয় যেন! প্রতিহারী। চিনিতে না পারি প্রভু! ভাবে বুঝি পরম হুন্দরী।

গ্রমোদলহরী |

ছিলেন রত্য; কিন্তু সেই ছুগ্মন্ত যখন হার পিতার তপোবনে প্রথম উপনীত হন, তখন তিনি এবং তাহার সহচরীরা ছুগ্মন্তের সমুচিত আদর সৎকার করিতে কিঞিন্মাত্রও কু্টিত হন নাই। ভবভূতির জনকতনয়া, পাদপকণ্ঠলগ্ন পুঙ্পিত ব্রততীর ন্যায়, রঘুকুলপতির কণলগ্ন রহিয়াও, রাজদৃত, রাজর্ষি এবং দেবর লক্ষ্মণ সুমন্ত্ প্রভৃতি সুপ্রসিদ্ধ রাঁজপুরুষদিগের সহিত স্বচ্ছন্দ আলাপ করিয়াছেন। ইন্দুমতী, ফুল্লারবিন্দ-সরোবর-সদৃশী স্বয়ং বরদভায়, প্রফুল্ল রাজহৎসীর ন্যায় লীলা করিয়াও, অনি- ন্দিত রহিয়াছেন | দময়ন্তী দেব-প্রেরিত নিষধ-নাথের নিকট অক্নলানবদনে উপস্থিত হইয়া, তাহার প্রাত্যেক কথার প্রত্যুত্তর দিয়াছেন। পাঞ্চালী কুষদ্বৈপায়ন প্রভৃতি তেজঃপুগ্ধ তাপবুদিগের নান্লিধ্যেও রাজনীতির নানা কথা লইয়া বাদবিতর্ক করিয়াছেন, এবং পুর-নারীরা! পুজার ব্যক্কিমাত্রের দিকেই মুখ তুলিয়া চাহিতে পারি- য়াছেন।

যাহা হউক, দে অতীত কাহিনীর আলোচনা করা, আমার এইক্ষণকাঁর অতিপ্রেত নহে ভারতললনার বর্তমান ঘোমট! যবনাচাঁরের অনুকরণ, কিংবা যবন রাঁজাদিগের অত্যাচারেরই ফলম্বরূপ হউক, অথবা ইহা।

ঘোঁমটা | ৩৯

ভারতগমাজের ক্রমিক অধঃপাত হইতেই নমুক্ভূত হইয়! থাকুক, ইহাকে এখনও যত্ত্বের সহিত রক্ষা করা৷ উচিত কি না, ইহাই আমার জিজ্ঞান্য | প্রাচীন মন্প্রদীয়ের পুজ্য অপুজা, শিক্ষিত অশিক্ষিত, অনেকেই হয় এই প্রশ্ন শুনিয়। যুগপৎ স্বলিয়! উঠিবেনঃ এবং বিবিধ শ্রীব।ভঙ্গি সহকারে সমস্বরে বলি- , বেন যে, কুলের কামিনী ঘোমটা দিবে কি না, বিষয়ে বান্ধবের একজন সহযোগী পণ্ডিতের ব্যবস্থা লওয়ার আবশ্বাকতা নাই 1 আমি বলি, আবশ্যকতা আছে। আদৌ ঘোমটা কেন, তাহারই বিচার কর। ঘোমটা কি হিন্দুধর্্-নীতির বিশুদ্ধতা পৌরাণিক গৌরব রক্ষার জন্য? কথার আমার মনে বড় ছঞখ হয়, এবং ভুঃখের সঙ্গে হানি আদে। হিন্দ কি? যে হিন্দুধর্ম পূর্কে আর্জাতির মুকুটমনিস্বরূপ মহানুভাব আচাধ্যদিগের জ্ঞানোজ্জবল। ভক্তির অমল জ্যোতিতে নমস্ত জগৎকে আলোক দান করিত,._ ভগবৎপদাশ্রিত ক্ষত্র- বীরদিগের মগর্ক পদ-বিক্ষেপে পৃথিবীকে কম্পিত রাখিত, যে হিন্দুধশ্্ এক দিন সভ্যতার শিরোরত্ব রূপে শোভা পাইত, এবং যোগে ভোগে জদাঁচারের প্রবর্তন করিয়া, _নমাজে সর্বপ্রকার সুখময়ী সুনীতির পথ দেখা

3৩ গ্রমোদলহরী |

ইয়া, এবং সামীজিকতায় জীবনের সমস্ত কার্যে পৃথী- দুল্লভ পরার্৫থা প্রীতির সুধা ঢালিয়া, প্রকৃত দৌর- কান্তিতে বিলপিত রহিত, সেই হিন্দুধর্ম কি আজ ্রক্মাণ্ডের সকল ছাড়িয়া এবং প্রাচীন। কীত্তির সকল লীলায় জলাঞ্জলি দিয়! হিন্দুকুল-ললনার ঘোমটায় গিয়া লুক্কায়িত রহিয়াছে? তবে কি ঘোমটা লজ্জার অন্ন রোধে? ইহাও আমি মানিতে পারি না।

প্রচলিত লজ্জার প্রকার প্রতিক্কতি অনেক এবং উহা এক বিচিত্র বস্তু আমি বহু চিন্তা করিয়াও উহার অনন্ত চাঁতুরীর অন্ত পাই নাই, এবং কোন দিনও যে পাইব আমার মনে এমন আশা নাই ফলতঃ, কিসে লজ্জ! যাঁয়, আর কিনে লজ্জা! থাঁকেঃ তাহা মনূুষ্যের কথ! দুরে থাকুকঃ দেবতারও বুদ্ধির অগ্রম্য বিলাতের বিবি- দিগ্ের মধ্যে অনেকেই অর্দবনন। হইয়। 'অজ্ঞাত-চরিত্র পুরুষের নহিত প্রকাশ্য স্থলে তালে তাঁলে নাচিতে গাইতে পারেন, পূর্রাগের পুষ্পিত ছলনায় যে ভাঁবে ইচ্ছা দেই ভাবে এবং বীহাঁর সহিত ইচ্ছা! তাহার হিতই প্রণয়ের খেলা খেলিতে পারেন, এবং অশ্বারূঢ়া উগ্রচণ্ডার মত, অশ্বপৃষ্ঠে সমারূঢ়া হইয়া, পুরুষের পশ্চাৎ পশ্চাৎ অনা- য়ানে প্রধাবিত হইতে পারেন। ইহার কিছুতেই তাহা-

ঘোমটা 3৯

দিগের লজ্জা বিনষ্ট হইয়া যাঁয় না| কিন্তু তাহারা, অতি উতৎকট পীড়ার অনুরোঁধেও, পরের কাছে চরণতলের আবরণ ক্ষণকালের তরে উন্মোচন করিতে বাধ্য হইলে, অথবা দৈবদোষেঃ দেশে আদিয়া,পরের অধরে তামুল- রাগের রেখামাত্র দেখিলে,লজ্জায় একবারে মরিয়া যাঁন।

আমাদিগের মধ্যেও লজ্জার এই রূপ রস-বৈচিত্র্য এবং সর্বত্রই নেই বিচিত্রতার অখখ্য উদাহরণ সর্বদা লোকের চক্ষে ঠেকে যথা, স্ুুধীরবাবুর ছোট শ্বাশুড়ী বড় লঙ্জা- শীলা। সকলেই বলে, তিনি লক্জার শাপনে জ্যেষ্ঠ কি কনিষ্ঠ নহোদরেরও মুখের দিকে চাহিয়া কথা কহিতে সমর্থ হন না, এবং তাহার স্বামীর হিতও কোন দিন মুখ ভুলিয়া কথা কহিয়াছেন কি না, তাহা কেহ জানে না| কুলের কামিনী নিল্লজ্জা হইলে তাহার মনে এম- নই স্বণা “তরী যন্ত্রণা? উপস্থিত হয় যে, যদি তাহার পুভ্রবধূটি, সীমন্তে দিন্দুর দেওয়ার অভিলাষে, দর্পণের সম্মুখেও মুখের ঘোমটা ফেলিয়া বনে, তাহা হইলেই তিনি শিরে শতবার করাঘাঁত করেন, এবং কলির পাপাচারে আর লেখা পড়ার পাপময় অত্যাচারে পৃথিবীর লজ্জা সঙ্কোচ যে একবারে প্রক্ষালিত হইয়া গেল, ইহা চিন্তা